ইসলামাবাদ, ১০ এপ্রিল (২০২৬): যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার লক্ষ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকলেও দুই দেশের মধ্যে শেষ পর্যন্ত আলোচনা হবে কি না, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে লেবানন পরিস্থিতি। গত বুধবার পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তবে সেই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। এরপরই লেবাননে ভয়াবহ হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী, যাতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ আহত হন।
ইরান বর্তমানে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হলে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তেহরান চায় যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবাননকেও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে। কিন্তু ইসরায়েল এই শর্ত মানতে নারাজ হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘কান’ দাবি করেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিনিদের সঙ্গে ইসলামাবাদের নির্ধারিত সংলাপ স্থগিত করেছে ইরান। লেবানন ইস্যুতে কোনো সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহী নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
