বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন বলেছেন, “জুলাই বিপ্লবে ১৪ শতাধিক মানুষ শাহাদাত বরণ করলেও তাঁদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন বা প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোবারক হোসাইন তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে শহীদ পরিবারগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান শুরু থেকেই শহীদ ও আহতদের পাশে দাঁড়িয়ে বহুমুখী সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস অম্লান রাখতে জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ‘স্মারকগ্রন্থ’ প্রকাশের কথাও তিনি জানান।
বক্তব্যে তিনি বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “গণভোটের ৭০ শতাংশ রায়কে অস্বীকার করে বিএনপি প্রমাণ করেছে তারা জনগণের শক্তিতে নয়, বরং কারচুপিতে বিশ্বাসী। জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করার এই অপচেষ্টা চরম নিন্দনীয়।” তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলেও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলো অবস্থান পরিবর্তন করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে।
ওয়ার্ড সভাপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নৈতিকভাবে দৃঢ় নেতৃত্ব গড়া জরুরি। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি চরিত্রহীন বা নীতিহীন হলে সমাজ অস্থির হয়ে ওঠে। তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াতে ইসলামী অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও নিজেরা কারো ওপর কোনো অন্যায় করবে না।
যশোর জেলা নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবু সাদিক বিশ্বাস।
জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুজাফর সিদ্দিক।
সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, গোলাম কুদ্দুস ও অধ্যাপক সামসুজ্জামান জামান।
মাওলানা রেজাউল করিম, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম ও জেলা প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলন শেষে গণভোটের রায় কার্যকর ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ পরিচালনা করা হয়।
