নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে পর্দার আড়ালে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

লেখক: মিলন
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

বর্তমান সংসদ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ভাগ্য পর্দার আড়ালে নির্ধারিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে পুরো জাতিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বর্তমান নির্বাচন নিয়ে অন্তত দুইজন ‘রাজসাক্ষী’ পাওয়া গেছে। ভোটের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়ে সাবেক একজন উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী সরাসরি সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তারাও ছিলেন, কিন্তু ড. ইউনুস লন্ডনে গিয়ে ট্রফি তুলে দিয়েছেন অন্য হাতে। যদি পর্দার আড়ালেই ট্রফি বা বিজয়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে নির্বাচনের প্রয়োজন কী ছিল? এটি জাতির সঙ্গে এক ধরণের প্রতারণা এবং ব্ল্যাকমেইলিং।”

ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দলকে অন্ধকারে রেখে সরকারি দল এককভাবে সেই রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, “যেখানে সব অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনার কথা ছিল এবং স্পিকার নিজেও সময় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অনেক অধ্যাদেশকে ‘ল্যাপস’ করে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।”

জুলাই জাদুঘর বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরেও হঠাৎ করেই সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংশোধনী এনে বিষয়টিকে দলীয় রূপ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, “সংস্কৃতি মন্ত্রী নিজেই জানতেন না বিলে কী সংশোধনী আনা হচ্ছে। যদি মন্ত্রীই না জানেন, তবে এই কলকাঠি কোথা থেকে নাড়া হচ্ছে? এভাবে একটি গণতান্ত্রিক সংসদ চলতে পারে না।”

দুদক, পুলিশ সংস্কার, গুম কমিশন এবং গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো পাসের দাবিতে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের সঙ্গে জড়িত বিলগুলো সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে। তারা কেবল সেগুলোই আনছে যেগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা যায় এবং ফ্যাসিজম বহাল থাকে।”

পরিশেষে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দল রাজপথে ও সংসদে লড়াই চালিয়ে যাবে। ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করা মানে গণতন্ত্রকে অপমান করা। দাবি আদায়ে তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।