রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাব্য কোচের তালিকায় দিদিয়ের দেশমের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো। আপনার নিউজ ওয়েবসাইটের জন্য এটি ৬০০ থেকে ২৫০০ শব্দের স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে অত্যন্ত তথ্যবহুলভাবে সাজানো হয়েছে।
ক্রীড়া প্রতিবেদক | আজকের বার্তা
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে সফল এবং রাজকীয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। এই ক্লাবের ডাগআউটে দাঁড়ানো মানেই কেবল জয় নয়, বরং সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ করা। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউট সামলাচ্ছেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। তবে ফুটবলের চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সাফল্যই চিরস্থায়ী নয়। আনচেলত্তির পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন—তা নিয়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর অন্দরমহলে চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ। জিনেদিন জিদান, জাভি আলোনসো বা রাউল গঞ্জালেসের মতো পরিচিত নামগুলোর ভিড়ে এবার এক চমকপ্রদ নাম উঠে এসেছে। তিনি হলেন ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো কিংবদন্তি কোচ দিদিয়ের দেশম।
দিদিয়ের দেশম আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ। ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে তার সাফল্য আকাশচুম্বী। ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নিয়ে গেছেন তিনি। একজন খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি ছিলেন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক। মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সবসময়ই এমন কাউকে পছন্দ করেন, যার ড্রেসিংরুমে বড় তারকাদের সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যার ঝুলিতে বড় বড় শিরোপা আছে। দেশম এই উভয় মাপকাঠিতেই শতভাগ সফল।
রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান স্কোয়াডে কিলিয়ান এমবাপ্পে, এডুয়ার্ডো কামাভিঙ্গা, অরেলিয়ান চুয়ামেনি এবং ফারল্যান্ড মেন্ডির মতো একঝাঁক ফরাসি তারকা রয়েছেন। দিদিয়ের দেশম দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে এই খেলোয়াড়দের কোচ হিসেবে কাজ করছেন। ফলে তার অধীনে এই ফরাসি ব্রিগেড আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
কার্লো আনচেলত্তি রিয়াল মাদ্রিদকে অসংখ্য শিরোপা উপহার দিয়েছেন। তার অধীনে লস ব্লাঙ্কোসরা জিতেছে লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একাধিক শিরোপা। তবে গুঞ্জন রয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর বা তার আগেই আনচেলত্তি ক্লাব ফুটবলের ইতি টানতে পারেন অথবা ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারেন। রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ কখনোই শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করে না। তারা সবসময়ই ‘প্ল্যান-বি’ প্রস্তুত রাখে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেশমকে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দিদিয়ের দেশম রক্ষণভাগ জমাট রেখে প্রতি-আক্রমণ বা কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলে বিশ্বাসী। রিয়াল মাদ্রিদের খেলার দর্শনের সাথে তার কৌশলের বেশ মিল রয়েছে। বিশেষ করে বড় ম্যাচে স্নায়ুর চাপ সামলে জয় ছিনিয়ে আনতে দেশমের জুড়ি মেলা ভার। রিয়ালে এমবাপ্পে এবং ভিনিসিয়াসের মতো দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডদের ব্যবহার করে দেশম তার পরিচিত ‘ট্রানজিশন ফুটবল’ আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন।
তবে দেশমের রিয়াল মাদ্রিদে আসার পথে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথমত, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোনো ক্লাবের কোচিং করাননি। ২০১২ সাল থেকে তিনি ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্বে আছেন। ক্লাব ফুটবলের দৈনন্দিন চাপ আর জাতীয় দলের টুর্নামেন্টভিত্তিক চাপের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। জুভেন্টাস বা মোনাকোর হয়ে ক্লাব ফুটবলে তার অভিজ্ঞতা থাকলেও, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
দ্বিতীয়ত, রিয়ালের সমর্থকদের প্রথম পছন্দ সবসময়ই জিনেদিন জিদান অথবা ক্লাবের প্রাক্তন তারকা জাভি আলোনসো। বিশেষ করে বায়ার লেভারকুসেনের হয়ে আলোনসোর অভূতপূর্ব সাফল্য তাকে এই দৌড়ে অনেক এগিয়ে রেখেছে। দেশম যদি মাদ্রিদে আসেন, তবে তাকে শুরু থেকেই বড় কোনো শিরোপা জিতে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে, নয়তো বার্নাব্যুর গ্যালারিতে সাদা রুমাল উড়তে দেরি হবে না।
রিয়াল মাদ্রিদে দেশমের আসার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের কারণে। দেশমের অত্যন্ত প্রিয় এবং বিশ্বস্ত শিষ্য হলেন এমবাপ্পে। ফ্রান্স জাতীয় দলে তাদের রসায়ন দুর্দান্ত। এমবাপ্পে যখন রিয়ালের প্রধান সেনাপতি হতে যাচ্ছেন, তখন তার প্রিয় কোচকে পাশে পাওয়াটা ক্লাবের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে। পেরেজ মনে করছেন, দেশম এলে এমবাপ্পের সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনা সহজ হবে।
দিদিয়ের দেশম কি সত্যিই রিয়াল মাদ্রিদের সাদা পোশাকে বার্নাব্যুর ডাগআউটে দাঁড়াবেন? নাকি এটি কেবল ট্রান্সফার উইন্ডোর একটি গুঞ্জন হিসেবেই থেকে যাবে? সময়ই এর উত্তর দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, যদি দেশম রিয়ালে যোগ দেন, তবে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন এক শক্তির উত্থান ঘটবে। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কৌশলের সাথে রিয়ালের রাজকীয় ঐতিহ্যের মিলন ফুটবল বিশ্বকে এক নতুন রোমাঞ্চ উপহার দেবে।
