যুদ্ধবিরতি: যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটা নয়, বরং জীবন রক্ষাকারী ‘ইজেকশন সিট’

লেখক: মিলন
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

যুদ্ধবিরতি: যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটা নয়, বরং জীবন বাঁচানোর ‘ইজেকশন সিট’

বৈরুত, ১০ এপ্রিল (২০২৬): মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে কেবল একটি সাময়িক বিরতি হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো রামি জি. খৌরি এটিকে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে একটি ‘ঐতিহাসিক পরিবর্তন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এই চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

খৌরির মতে, এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো সাধারণ পরাজয় বা পিছু হটা নয়; বরং এটি তাদের জন্য একটি জীবন রক্ষাকারী ‘ইজেকশন সিট’ (Ejection Seat) বাটন, যা তাদের একটি নিশ্চিত বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিয়েছে।

রামি খৌরি উল্লেখ করেন, এই সংঘাত দীর্ঘদিনের পশ্চিমা ও ইসরায়েলি আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। ইরান কোনো প্রচলিত সমঝোতার পথ না খুঁজে বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এমন একটি সংঘাত থেকে ‘পালানোর সুযোগ’ করে দিয়েছে, যেখানে তারা তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই যুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের কার্যত মৃত্যু ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।

নিবন্ধে দাবি করা হয়, প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা পরিকল্পনা’র ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। খৌরির মতে, এই পরিকল্পনাটি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বৈধ অধিকার ও চাহিদা নিশ্চিত করার একটি সাহসী প্রচেষ্টা।

চুক্তিটি একটি অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেছে। খৌরি বলেন, এটিই প্রথমবার যখন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক শক্তিকে কার্যত রুখে দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক দৃঢ়তা বিশ্বমঞ্চে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধানকে অনিবার্য বলে মনে করেন খৌরি। তার মতে:

“জায়নবাদ ও ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী লক্ষ্য প্রতিহত করতে এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হলে

এই সংঘাতের ফলে আরব দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একজন নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী এবং নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে ওয়াশিংটনের ভাবমূর্তি এখন খাদের কিনারায়।

 রামি খৌরি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ঔপনিবেশিক সহিংসতা ও ঐতিহাসিক ক্ষতগুলো যদি সঠিকভাবে নিরাময় করা না হয়, তবে এই যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক প্রশান্তিই দেবে, স্থায়ী কোনো সমাধান আনবে না।