ইরান-ইসরায়েল সংঘাত: ১৮ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে তেহরান

লেখক: আসিফ ইকবাল
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

মাত্র ৪০ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশ ইরান চরম অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত হামলায় দেশটির বেসামরিক ও সামরিক খাতের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ৪০ দিনে ইরানে পরিচালিত ধ্বংসযজ্ঞে দেশটির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা

বেসামরিক অবকাঠামো ও আবাসন খাত ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড ক্ষয়ক্ষতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধে ইরানের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • আবাসিক বাড়ি: প্রায় ১ লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, যার অনেকগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে এবং বাকিগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

  • বাণিজ্যিক কেন্দ্র: প্রায় ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • স্বাস্থ্যসেবা: ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে, যা দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ৮৫৭টি স্কুল এবং ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রেডক্রসের নিজস্ব ২০টি স্থাপনাও হামলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি।

গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থনৈতিক স্থাপনা দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পরিকল্পিতভাবে ১৫টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি বিশাল জ্বালানি সংরক্ষণাগার, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বেসামরিক বিমান। এছাড়াও শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজগুলো ধ্বংস হওয়ায় দেশজুড়ে বেকারত্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে; কাজ হারিয়েছেন অসংখ্য ইরানি নাগরিক।

সামরিক খাতের বিপর্যয় বেসামরিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরানের সামরিক শক্তিতেও বড় আঘাত হেনেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ইরানের চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র—খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ এবং শারাউদ—ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি ২৯টি মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি টানা ৪০ দিনের এই তান্ডবে ইরান বর্তমানে এক মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে লাখো মানুষের ঘরবাড়ি হারানো, অন্যদিকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয় দেশটিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এই ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


সূত্র: আল-আরাবিয়া, জেরুজালেম পোস্ট, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্ট।