বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসানকে ঘিরে আবারও আশার আলো দেখা দিয়েছে। ২০২৪ সালের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে দেখা না গেলেও, সম্প্রতি বিসিবি এবং নির্বাচক প্যানেলের কথায় স্পষ্ট যে, সাকিবের ফেরার পথ এখন অনেকটাই প্রশস্ত। তবে এই প্রত্যাবর্তন কেবল সাকিবের ইচ্ছার ওপর নয়, বরং বিসিবির দেওয়া সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে। পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ড সিরিজে তার অন্তর্ভুক্তি না হওয়া নিয়ে যখন নানা গুঞ্জন চলছিল, ঠিক তখনই প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে বোর্ডের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
সাকিব আল হাসান সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২০২৪ সালে। এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আইনি জটিলতায় দীর্ঘ সময় তাকে জাতীয় দল থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। বর্তমানে তার নামে একাধিক মামলা থাকায় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে এই অলরাউন্ডারকে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জাতীয় দল থেকে এক প্রকার ব্রাত্য হয়ে পড়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও সাকিবের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এক সময় আইপিএল বা পিএসএলের মতো বড় মঞ্চে সাকিবের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও, এবারের আসরগুলোতে তিনি ছিলেন অনেকটাই অনুপস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে আমেরিকা বা বিদেশের মাইনর লিগগুলোতে খেলতে দেখা গেছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানদণ্ড অনুযায়ী বেশ নিচু সারির।
সাকিবের এই ছন্দপতন এবং মাঠের বাইরের ব্যস্ততা নিয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সম্প্রতি সাকিবের সাথে আলোচনা করেছেন। বাশারের মতে, সাকিব বর্তমানে যেখানে অবস্থান করছেন, সেখানে নিয়মিত ক্রিকেটের অনুশীলন বা হাই-ইনটেনসিটি ট্রেনিংয়ের সুযোগ খুব একটা নেই। যদিও সাকিব ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করছেন এবং টুকটাক ক্রিকেট খেলছেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাহিদা মেটাতে কেবল এটুকুই যথেষ্ট নয়। বিসিবি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অনেক বেশি ডেডিকেশন এবং শারীরিক সক্ষমতা দাবি করে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের মতো বড় সিরিজে খেলতে নামার আগে যথাযথ ম্যাচ ফিটনেস থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।
সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচক যে বড় শর্তটি দিয়েছেন, তা হলো ‘প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদী সংকল্প’। হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, সাকিব যদি ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেকে তৈরি করতে চান এবং নিয়মিত ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী হন, তবেই তাকে পুনরায় বিবেচনা করা হবে। বিসিবি চায় না সাকিব কেবল খণ্ডকালীন বা বেছে বেছে কিছু সিরিজে খেলুক। সাকিবের ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে বোর্ড তার কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ নিবেদন প্রত্যাশা করছে। যদি তিনি যথাযথ ফিটনেস প্রমাণ করতে পারেন এবং নিজেকে প্রস্তুত রাখতে পারেন, তবে বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞতার ঘাটতি মেটাতে সাকিবের বিকল্প কেউ নেই।
সাকিবের ফেরার পথে রাজনৈতিক ও আইনি বাধা থাকলেও ক্রিকেটীয় বিচারে তিনি এখনো নির্বাচকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। তবে কেবল নামের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং মাঠের পারফরম্যান্স এবং কঠোর প্রস্তুতির শর্ত পূরণ করেই তাকে ফিরতে হবে। ৩৯ বছর বয়সেও সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্য দলের জন্য এক বড় সম্পদ হতে পারে, যদি তিনি বিসিবির রোডম্যাপ অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করতে সক্ষম হন। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কবে সেই পুরনো সাকিব আবারও চেনা রূপে মিরপুরের ডাগআউটে পা রাখবেন। শেষ পর্যন্ত বিসিবির এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সাকিব ফিরবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
