ঢাকা জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, হ্যাঙ্গার ভাড়া এবং উচ্চহারের কর ও ফি-এর কারণে দেশের এভিয়েশন শিল্প বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শনিবার রাজধানীর গুলশানে স্যামসন সেন্টারের সভাকক্ষে আয়োজিত এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনের নেতারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।এওএবি নেতাদের মতে, বেসরকারি এভিয়েশন খাতকে পঙ্গু করে দিচ্ছে নিচের সমস্যাগুলো:জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্য: আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় স্থানীয় বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য।
সিভিল এভিয়েশন নির্ধারিত উচ্চহারে বিভিন্ন ফি এবং বর্ধিত হ্যাঙ্গার ভাড়া।শুল্ক ও কাস্টমস জটিলতা: যন্ত্রাংশ আমদানি ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে কাস্টমস সংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও স্কয়ার এয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন:”দেশের এভিয়েশন শিল্প অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে। এই মহাসংকট মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি আইনের কিছু অধ্যাদেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।সংগঠনের মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ফি এবং নীতিমালার সীমাবদ্ধতা মালিকদের খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে সিভিল এভিয়েশন ও সরকারের নীতি সহায়তা জরুরি।
সভায় দেশের এভিয়েশন খাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
আব্দুল্লাহ আল মামুন: ভাইস চেয়ারম্যান-২ (ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স)
জেড মাহমুদ মামুন: কোষাধ্যক্ষ (ইমপ্রেস এভিয়েশন)
আব্দুল্লাহ আল জাহির স্বপন: যুগ্ম সচিব (ব্লু ফ্লাইং একাডেমি)
রাকিবুল কবির: সাংগঠনিক সম্পাদক (বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স)
এছাড়াও মেঘনা এভিয়েশন, বসুন্ধরা এয়ারওয়েজ এবং স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।
ভিয়েশন শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সিভিল এভিয়েশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে এগিয়ে আসার জোর দাবি জানিয়েছে এওএবি।
